চেনা একটি জায়গা বাছুন

পরিবারের চেনা দোকান, বাসস্ট্যান্ড, বই নেওয়ার ডেস্ক বা আত্মীয়ের রান্নাঘর দিয়ে শুরু করতে পারেন। সেখানে কী হয়, তার ছোট একটি অংশ কল্পনা করুন। পুরো জায়গা তৈরি করতে হবে না। কাল্পনিক দোকান শুরু হতে পারে কী বিক্রি হয় আর কে এসেছেন সেই কথায়।

কার্যক্রমের জন্য দায়িত্বে থাকা বড়রা আগে যে উপকরণ বেছেছেন সেগুলোই ব্যবহার করুন। নতুন নতুন বস্তু জড়ো করার আগে শুধু কথায় দৃশ্যটি দাঁড়ায় কি না দেখুন। জায়গাটি গল্পের শুরু, ঠিক ক্রমে শেষ করতে হবে এমন লেখা নয়। একই দোকান কারও কল্পনায় বড়, কারও ছোট হলে শুরুতেই তা মেলানোর প্রয়োজন নেই।

চরিত্রের জায়গা বদলাবে

কেউ দোকানদার, কেউ ক্রেতা, কেউ অদ্ভুত জিনিস চাইতে আসা মানুষ হতে পারেন। চরিত্র বদলানো যাবে তা রাখুন। দুজন একই ভূমিকায় থাকতে চাইলে দুই কাউন্টার বা পালা বদলের গল্প হতে পারে; চরিত্রের মালিক কে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা প্রয়োজন নেই। বড় মানুষ প্রতিটি কথার নির্দেশ দেবেন এমনও নয়।

কল্পনার ভেতরের প্রশ্নে যোগ দিতে পারেন: “এই দোকান থেকে চাঁদে জিনিস পাঠানো যায়?” মজার উত্তর গল্পকে অন্যদিকে নিতে পারে। তবে কল্পনার কথা আর ঘরের সত্যিকারের সিদ্ধান্ত আলাদা বোঝা দরকার। গল্পে কাউকে কিছু দেওয়ার কথা মানেই বাস্তবে সেই কেনাকাটার প্রতিশ্রুতি নয়।

সব বানানোর বদলে বলা যায়

বড়রা কখনো ছোট ধারণাকে এত প্রস্তুতির কাজে বদলে ফেলেন যে শুরু করতেই অনেক সময় যায়। ঘরের কোণটি আজ স্টেশন বলে দিলেই হতে পারে; স্টেশন বানানোর প্রয়োজন নেই। ছাপা তালিকার বদলে মুখে বলা তালিকা চলতে পারে। কেউ সাইন আঁকতে চাইলে সেটিও অংশ হতে পারে, কিন্তু অন্য সবার শুরু করার শর্ত নয়।

জায়গাটি চিনতে সাহায্য করে এমন কয়েকটি কথা বাছুন, বাকিটা কল্পনায় থাকুক। পরিবারের মানুষ একই দৃশ্য আলাদাভাবে ভাবতে পারেন। কার সংস্করণ নির্ভুল তা বোঝাতে বড় মানুষকে বসতে হবে না। পরিচিত শব্দ আর অপ্রত্যাশিত উত্তর মিলেই নতুন গল্পের জায়গা তৈরি হয়।

পালা করে গল্প এগিয়ে নিন

আরেকভাবে একজন ছোট একটি বাক্য বলবেন, পরেরজন বলবেন তার পরে কী হলো। কথাগুলো ছোট রাখলে অংশ নিতে চাওয়া সবাই পালা পান। কেউ বাদ যেতে চাইলে কারণ বলার শর্ত নেই। গল্প বানানোর সময় ব্যাকরণ ঠিক করানো বা আরও দারুণ ধারণা চাইতে থাকা এড়িয়ে চলুন।

সবাই রাখতে চাইলে পরে বড় একজন সংক্ষিপ্ত করে লিখতে পারেন। যাঁরা কথা যোগ করেছেন তাঁরা তাতে স্বচ্ছন্দ কি না মিলিয়ে নিন। জিজ্ঞেস না করে শিশুর কথাগুলো প্রকাশ বা রেকর্ড করার প্রতিশ্রুতি দেবেন না। পরিবারের নিজের বানানো গল্প নিজেদের মধ্যেই থাকতে পারে। পরে পড়তে চাইলে সহজ নাম দিয়ে রাখলেই খুঁজে পাওয়া যাবে।

বড় সমাপ্তি না হলেও চলে

পরিবার অন্য কাজে যেতে চাইলে কাল্পনিক দৃশ্য থামতে পারে। শিক্ষা, বিজয়ী বা নিখুঁত সমাধান দিয়ে শেষ করতেই হবে না। চাইলে একটি শেষ কথা যোগ করার সুযোগ দিন, তারপর ঘর ও ধার করা জিনিস আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিন। পরে কেউ চরিত্রটির নাম বলেই আরেকটি ছোট দৃশ্য শুরু করতে পারেন।

ধারণাটি থাকুক, কিন্তু নির্ধারিত পরিবেশনায় বদলানোর প্রয়োজন নেই। পরিবারের আলাদা স্বর আর চেনা প্রসঙ্গই বিকেলটিকে নিজের করে। অল্প প্রস্তুতি আর গল্প বদলের অনুমতি দিয়ে শুরু করা যায়। নতুন সরঞ্জামের পরিমাণ দিয়ে একসঙ্গে কাটানো সময়ের মূল্য বোঝা যায় না। পরের গল্প হয়তো শুধু একটি মজার প্রশ্ন থেকেই শুরু হবে।

একটি উদাহরণ: গল্পের দোকানে সব জিনিসের নাম রঙের নামে। কেউ চাইবেন নীল বিকেল, কেউ হলুদ হাসি। কীভাবে তা দেওয়া যায় সবাই নিজের কথা যোগ করবেন। কোনো উত্তর আগে থেকে ঠিক নেই। এই ছোট বদলেই চেনা দোকানের দৃশ্য পরিবারের নিজের বানানো গল্পে চলে যেতে পারে।