গর্ভধারণের পূর্ব প্রস্তুতি

গর্ভধারণ আগে নিম্নের বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখুন

  • আপনার ওজন যাই হোক না কেন প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ুন। যা আপনার শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখবে এবং সন্তান ধারণ ও প্রসব সংক্রান্ত জটিলতাকে অনেকটাই সহজ করে দেবে।
  • সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন যা আপনার উর্বরতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। ভাজা-পোড়া কিংবা অতিরিক্ত লবণ, ফ্লেভার যুক্ত খাবার পরিহার করে প্রচুর পরিমাণে সবুজ সবজি ও ফল খাবার অভ্যাস করতে হবে। আপনার শরীরে প্রচুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, মিনারেল, আয়রন প্রয়োজন।
  • গর্ভধারণের পস্তুতি হিসেবে আপনার দিনে ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে। ফলিক এসিড গর্ভের শিশুর অনেক জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। রঙ্গীন শাক-সবজী, টক জাতীয় ফলের মধ্যে প্রচুর ফলিক এসিড আছে। বেশিরভাগ নারীর ট্যাবলেট খাওয়ার প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে মাল্টি ভিটামিন যেমন Zink,Zifolet ইত্যাদি গ্রহন করতে পারেন।
  • ওজনের দিকে বিশেষভাবে লক্ষ করুন। বেশী রোগা কিংবা স্থুল হলে গর্ভধারণ করতে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। তাই ওজন সঠিক রাখলে আপনার গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। সাথে আপনার ডেলিভারিও সহজ হবে।
  • শারীরিক কোন সমস্যা থাকলে দ্রুত তার চিকিৎসা করান, কারণ বাচ্চা পেটে আসলে অনেক ধরণের ওষুধই আপনি আর নিতে পারবেন না। অন্যদিকে গর্ভধারণের পূর্বে আপনার কোন ভ্যাক্সিন নেয়ার প্রয়োজন আছে কিনা সেটাও ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন।
  • দাঁতের কোন সমস্যা থাকলে গর্ভধারণ করার আগেই চিকিৎসা করিয়ে ফেলুন। কারণ গর্ভাবস্থায় তা জটিল আকার ধারন করতে পারে।
  • মাছ-মাংস খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। খেয়াল রাখুন আপনার খাওয়া মাছ কিংবা মাংস যেন খুব ভালো করে সেদ্ধ করা হয়। মলা-ঢেলা আর ছোট মাছ বেশী করে খাবেন।
  • গর্ভধারণের পূর্বে ও পরে চা-কফি এবং কোমল পানীয় পান করা ছেড়ে দিন বা কমিয়ে ফেলুন। সম্ভব হলে লাল চা বা কালো কফি পরিহার করে শুধু দুধ সহযোগে পান করুন। গর্ভাবস্থায় ২০০ মিলি গ্রাম এর অধিক ক্যাফেইন গ্রহন করা উচিত না, সাধারনত এক মগ কফিতে ১০০ মি.গ্রা. ক্যাফেইন থাকে। এছাড়া চকলেট ও বিভিন্ন ওষুধেও ক্যাফেইন থাকতে পারে।
  • অবশ্যই আজই ধূমপান ত্যাগ করুন, তা না হলে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে আপনার বাচ্চা দুনিয়াতে আসতে পারে।
  • কোন প্রকার মাদকসেবন ও অ্যালকোহল পানের অভ্যাস থাকলে দ্রুত ত্যাগ করুন।

সুস্থ শিশু
একটি সুস্থ শিশু যেমন পরিবারকে দিতে পারে অনাবিল আনন্দ তেমনি অসুস্থ শিশু নানা সমস্যা বয়ে নিয়ে আসতে পারে। তাই বাচ্চা নিতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে আগে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন করতে হতে হবে যা নিশ্চিত করবে একটি সুস্থ গর্ভধারন ও সুস্থ শিশু।
সচেতনতা
আমাদের দেশে গর্ভধারণের প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতনতা খুবই কম। এজন্য বেশিরভাগ নারীই বিভিন্ন শারীরিক/মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। গর্ভধারণের সময়কাল ও এবং একজন সুস্থ-সবল শিশুকে জন্ম দেয়া পর্যন্ত মাকে অনেক কিছু মেনে চলতে হয়। এছাড়াও মানসিক ভাবে সন্তানের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। অনাগত সন্তানের জন্য সঞ্চয় শুরু করুন, তাকে নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা করুন। এগুলো আপনাকে মানসিক ভাবে সতেজ রাখবে। তাই সন্তান গ্রহনের চেষ্টার সময় সম্ভব হলে একটা হানিমুনও করে আসতে পারেন দুজনে। এটাও আপনার দাম্পত্য সম্পর্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করবে।
প্রস্তুতি গ্রহন
আপনার শরীরকে আপনার সন্তানের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে হবে, সন্তান জন্ম দেয়ার জটিল এ প্রক্রিয়াটিকে অনেক সহজ করে দিতে এবং আপনার অনাগত সন্তান যেন সুস্থ সবল ভাবে পৃথিবীর আলো দেখতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে আপনাকে অনেকভাবে প্রস্তুতি গ্রহন করতে হবে । সম্ভব হলে গর্ভধারণের পূর্বে একজন প্রসূতি বিদ্যায় পারদর্শী ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করুন।