গর্ভবতী অবস্থায় বমিভাব কীভাবে সহনীয় পর্যায়ে রাখবেন?

গর্ভবতী অবস্থায় বমিভাব কীভাবে সহনীয় পর্যায়ে রাখবেন?

গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন প্রথম তিনমাস সকালের দিকে বমি হওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ। এতে শরীরের অন্য কোনও ক্ষতি না হলেও শরীরকে অনেকটাই দুর্বল করে দেয়। একে সাধারনত মর্নিং সিকনেস বলা হয়। স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষনা জানিয়েছে ৬৫% মহিলার গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে এই মর্নিং সিকনেস দেখা যায় যা তিন মাস পর কমে আসতে থাকে।

 

এই মর্নিং সিকনেস কেন হয়?
  • গর্ভবতী মায়ের শরীরে এস্ট্রোজেন, হিউম্যান কোরিওনিক গনাডোট্রোফিন ( Human Chorionic Gonadotropin – hCG ) নামক হরমোন এর  বৃদ্ধি।
  • কোনও কোনও বিশেষজ্ঞের মতানুসারে মানসিক চাপের ফলেও বমি বমি ভাব হতে পারে বলে মনে করা হয়ে থাকে।
  • গর্ভে যমজসন্তান ধারন করলে এই হিউম্যান কোরিওনিক গনাডোট্রোফিন নামক হরমোনের বৃদ্ধি হার খুব দ্রুত হয়, এজন্য বমি বমি ভাব বেড়ে যায়।
  • গর্ভবতী মায়ের ঘ্রাণশক্তি বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন খাবারের গন্ধ পেয়ে থাকে। এস্ট্রোজেন নামক হরমোনের বৃদ্ধির কারণে এমনটা হয়। এজন্য মর্নিং সিকনেস হতে দেখা যায়।
  • বিভিন্ন জন্ম নিয়ন্ত্রণকারী পিল খাওয়ার কারনে যদি আগে থেকেই কারো বমি জাতীয় সমস্যা থেকে থাকে তবে গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস মাত্রা বেশী হতে পারে।
  • বংশগত কারনেও অনেকের বমিভাব বেশী হওয়ার প্রবনতা দেখা যায়। এছাড়া মাইগ্রেন এর ব্যথাও মর্নিং সিকনেস এর অন্যতম একটি কারণ।
  • এছাড়া কোন গর্ভবতী মা যদি ২য় বার সন্তান সম্ভবা হয়ে থাকেন আর যদি ১ম বার সেই মায়ের মর্নিং সিকনেস হয়ে থাকে, তাহলে দ্বিতীয়বার মর্নিং সিকনেস হওয়ার হার আরও বেড়ে যায়।

এই বমি ভাব বা মর্নিং সিকনেস নিয়ন্ত্রনের জন্য কিছু ঘরোয়া নিয়ম মেনে চলা উচিত । যেমন-

১) মানসিক প্রস্তুতিঃ

গর্ভবতী মাকে প্রথমত বুঝতে হবে যে আগত সন্তানের জন্য এইটুকু কষ্ট মেনে নিতেই হবে। আর এটা যদি মেনে নিতে পারেন তবে সময়টা অতিক্রম করা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

২) হালকা ব্যায়ামঃ

সকালে ঘুম থেকে উঠার পর শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করা উচিত। অবশ্যই ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠতে হবে। দ্রুত উঠলে অনেক সময় মাথা ঘুরতে পারে। কিছুক্ষণ হাটাঁহাটি করলেও বমি ভাব কেটে যেতে পারে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

 

৩) স্ন্যাক্স বা ক্র্যাকারসঃ

অনেকেরই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি পান করার অভ্যেস থাকে। এটা অবশ্যই ত্যাগ করবেন। বিছানা ছেড়ে উঠে কিছু শুকনো খাবার যেমনঃ মুড়ি, বিস্কিট, টোস্ট বা স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। স্ন্যাক্স / ক্র্যাকারস এ উচ্চ কার্বোহাইড্রেট আছে যা এসিডিটি এবং বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। খালি পেটে কখনই পানি কিংবা চর্বি জাতীয় কোন খাবার খাওয়া যাবে না।

 

৪) অল্প অল্প করে পানি পানঃ

খাবারের অন্তত ২০ মিনিট বা আধা ঘণ্টা পর পানি পান করা উচিত।

একেবারে ঢক ঢক করে পুরো পানি পান না করে বিছানার পাশে রাখতে পারেন এবং  অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে পান করতে পারেন। এই নিয়ম সব খাবার গ্রহনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

তবে সারাদিন মিলিয়ে অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এতে শরীর সতেজ ও হাইড্রেট থাকবে এবং মনও ভাল থাকবে।

 

৫) বমি ভাব দূরীকরণে আদা

বমির সময় কিংবা বমি ভাব দূরীকরণে অনেকসময় আদা চিবুলে কাজে দেয়।

  • আদা চা ও খেলেও উপকার পেতে পারেন।
  • ৫/৬ ফোঁটা আদার রসের সাথে এক চা– চামচ মধু মিশিয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর পান করুন। বমি ভাব অনেকটাই উপশম হবে।
৬) বমি ভাব দূরীকরণে লেবু

গর্ভাবস্থায় বমির সমস্যায় লেবু সর্বাধিক প্রচলিত একটি উপকরণ।

  • লেবুর খোসার গন্ধ নিলে বমি ভাব অনেকটাই কমে আসে। এছাড়া লেবুতে উপস্থিত ভিটামিন সি গর্ভের সন্তান ও মায়ের জন্য খুবই দরকারী একটি উপাদান।
  • এক গ্লাস পানিতে তাজা লেবুর রস মিশিয়ে সকাল বেলা অল্প অল্প করে পান করতে পারেন। এতে দুর্বলতা এবং বমি ভাব কমে যাবে।
  • এছাড়া লেবু দিয়ে তৈরী লেমন এসেন্সিয়্যাল অয়েল একটা রুমাল এ মেখে তার থেকে গন্ধ নিতে পারেন। এমনকি অনেক সময় লেমন ক্যান্ডি মুখে রাখলেও উপকার পাওয়া যায়।
৭) বমি ভাব দূরীকরণে আমসত্ত্ব

আমসত্ত্ব বমি ঠেকাতে খুব কাজে দেয়। আম কিংবা অন্য কোনো ফলের মাংসল অংশ শুকিয়ে যদি তা থেকে সত্ত্ব বানানো হয় তবে তাও খেতে পারেন। আমসত্ত্ব পানি স্বল্পতাও কমিয়ে দেয়। তাছাড়া আমসত্ত্ব তৈরীতে প্রচুর চিনি ব্যবহার করা হয় বলে আমসত্ত্ব শরীরের দুর্বলতাও কমিয়ে দেয়।

আপনার মন্তব্য